প্রার্থনা

বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে
নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।

সহায় মোর না যদি জুটে
নিজের বল না যেন টুটে,
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি
লভিলে শুধু বঞ্চনা
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।

আমারে তুমি করিবে ত্রাণ
এ নহে মোর প্রার্থনা,
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি
নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।

নম্রশিরে সুখের দিনে
তোমারি মুখ লইব চিনে,
দুখের রাতে নিখিল ধরা
যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

আমাদের গান

রচনা ও সুর

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মৈত্র

আমাদের পাঠভবন,
শিক্ষাও দীক্ষায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে হেথা
নবপাঠ করেছি গ্রহণ।
নতুন পথের দিশা এখানেই পেয়েছি।
নতুন সুরের গান এখানেই গেয়েছি।
করি নবতর জ্ঞানের
এই যজ্ঞশালায়
নবনবতর পাঠ গ্রহণ।।

পাঠভবন ডানকুনি একটি সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মনিরপেক্ষ সদর্থক মূল্যবোধের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত। মনকে অনুভূতিশীল, চিন্তাশক্তিকে সুন্দর ও সুদৃঢ়, স্বভাবকে মার্জিত ও রীতি সম্পন্ন এবং সৃজনী শক্তিকে সুনিপুণ ও প্রাণবন্ত করে তোলাই এই বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য। আমরা বিশ্বাস করি, আত্মপ্রত্যয়ের পথই শ্রেষ্ঠ পথ। সহযোগিতার সভ্য নীতিই আত্মশক্তিকে জাগ্রত করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা, তা নিহিত থাকে মানুষকে জানা ও মানুষের কাছে নিজেকে জানানোর এক উৎকৃষ্ট উপায় এর মধ্যে। কথ্য ভাষা, সুরের রেখার ও গতির ভাষার মধ্য দিয়ে মানুষের সামগ্রিক রূপ তার বিচিত্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে ওঠে। তাই সংগীত, নৃত্য, ক্রীড়া ও শিল্পকলা এই বিদ্যালয়ে পঠন পাঠনের মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ ।

শিক্ষার ইমারত আমাদের সকলের মিলিত ধ্যান ধারণা ও প্রচেষ্টার ফসল, কেবলমাত্র সংগঠকদের বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নয়, ছাত্রছাত্রীদেরও। তারাই মূলত গড়ে তোলে বিদ্যালয়কে। বিদ্যালয় প্রধানত তাদেরই জন্য। তারা যেন মনে করে, বিদ্যালয় তাদের একান্ত আপন স্থান যা তারা নিয়মিত, নিত্য নতুন রূপে, তাদের জীবন দিয়ে, সন্তর্পনে গড়ে তুলেছে, যার মধ্যে আছে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আছে তাদের গভীর ভরসা, আছে চরম আনন্দ, পরম মুক্তি।